img

বিশ্বজুড়ে শুল্ক বাধা ও বাণিজ্য যুদ্ধের অস্থিরতার মধ্যে ভারতের জন্য এক বিশাল কৌশলগত বাজার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো। 

বর্তমানে ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ বা জিসিসি (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন) ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্লকে পরিণত হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান বা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো একক অংশীদারদেরও ছাড়িয়ে গেছে। 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে। এই বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে রত্ন পাথর, ধাতু, ইলেকট্রনিক্স এবং রাসায়নিক রপ্তানি।

এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভারত এখন জিসিসির ছয়টি দেশের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জিসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পরিধি ও পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ স্বাক্ষর করেছেন। 

মন্ত্রী জানান, এই চুক্তির ফলে পণ্য ও পরিষেবার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হবে, যা ভারতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। উল্লেখ্য, ভারত ইতোমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের সঙ্গে পৃথকভাবে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি কার্যকর করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ভারতীয় কর্মরত রয়েছেন, যা এই অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করেছে। অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাকসের মতে, ভারতের উচিত কেবল মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভর না করে প্রতিবেশী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান বাজারের দিকে বেশি নজর দেওয়া। 

এই নতুন বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সংস্থাগুলোর জন্য জিসিসি বাজারে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘ কয়েক বছর ঝুলে থাকার পর এই আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়াকে ভারতের অর্থনীতি ও কূটনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর